ঢাকাবুধবার , ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৫

গোবরে ফোটা এক পদ্ম ফুল আমি: ঢাবি ছাত্রী মিনহাজ

বার্তা বিভাগ
সেপ্টেম্বর ১৭, ২০২৫ ১০:৫৪ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

গোবরে ফোটা এক পদ্ম ফুল আমি। যার পরিচর্যা করার মত কেউ ছিল নাহ। হয়তো আমি পদ্ম ফুলের মতো এত সুন্দরী নয় কিন্তু নিজের সন্তুষ্টির জন্য তুলনা-ত করাই যায়।অনেক সাহস নিয়ে এই লিখা। আজকের লেখাটি আমি কোনো করুণা পাওয়ার জন্য লিখছি নাহ। বরং আমার লেখাটি হয়তো কিছু মানুষের সাহস এবং অনুপ্রেরণা জোগাবে এই জন্য লিখা। সুতরাং লেখাটি অনেক বড় হবে। আপনি চাইলে এড়িয়ে যেতে পারেন।

খুবই গরিব ঘরের মেয়ে আমি। চাল আনতে পান্তা ফুরায় এমন অবস্থা। বাবা সিকিউরিটি গার্ডের চাকরি করত। ভাইয়া মানসিক ভাবে ততটা সুস্থ নাহ। তাই মাঝে মাঝে দিনমজুরির কাজ করলে করলো, না করলে নাই। তাই ভাবি সংসারের হাল ধরতে তার এক বছর ছেলেকে রেখে গার্মেন্টস চাকরি নেয়। এমন অবস্থায় আমার পড়াশোনা করার মত কোনো পরিস্থিতি ছিল নাহ। কিন্তু কেন জানি আমার পড়াশোনা প্রতি খুব ঝোঁক ছিল। তাই আমার পড়াশোনা জন্য নিজেকেই পথ খুজতে হয়। আমি আর আম্মু মানুষের বাসায় কাজ নেয়। তখন আমি ক্লাস 6 এ ছিলাম। আমি যখন স্কুলে থাকতাম তখন আম্মু কাজ করত। আমি স্কুল থেকে বাসায় এসে যখন কাজ করতে যেতাম তখন আম্মু বাসায় আসত। এইভাবে অদলবদল করে কাজ করতাম। নিজের বুঝ হওয়া পর্যন্ত কখনো ইদ এ নতুন জামা দিয়ে ইদ করি নি। আমার কথা বাদেই দিলাম। আমার বাবাকে ও মৃত্যুর আগ পর্যন্ত কখনো দেখি নি নতুন জামা কিনতে। কেউ জাকত এর কাপড় দিলে তা দিয়ে ইদ করতাম অথবা পুরনো কাপড় দিয়ে। এই ভাবে আমরা মা মেয়ে মানুষের বাসায় কাজ করে আমার পড়াশোনার খরচ চলত্। JSC পরীক্ষা যখন শুরু হয় ঐ একমাস আমি কাজ করি নায়। তখন আম্মু ২ বেলা কাজ করে দিয়ে আসত। আমার পরীক্ষা শেষ হওয়ার পর আবার কাজ শুরু করি। পরে যখন ফলাফল দেয় তখন দেখি আমি গোল্ডেন GPA 5 পেয়েছে। গোল্ডেন পাওয়ার পর ও আমি কর্মাস নেওয়াই আমাকে অনেকে জিজ্ঞেস করেছিল কেন আমি সায়েন্স নেয়নি। কিন্তু সেই দিন আমি কিছুই বলতে পারি নাই। এর পর ক্লাস ৯ এর শুরুতে কেন জানি যে বাসায় কাজ করতাম ওনাদের সাথে আম্মুর ঝামেলা হয়। আমিও স্কুল থেকে এসে কাজ করতে গেলে অনেক অনেক বেশি কাজ দিত। তাই আমি আর আম্মু কাজ করতে যায়নি এরপর থেকে। তারপর শুরু হয় টিউশনি। ক্লাস ৯ থেকে ১০০ টাকা, ২০০টাকা দিয়ে ক্লাস ১, ২, ৩ এর বাচ্চা পড়াতাম। এই টাকা প্লাস আম্মু আব্বুর থেকে নিয়ে কিছু টাকা জোগাড় করে কোনো রকম ক্লাস ৯ এ ২টা প্রাইভেট টিউটর এর বেতন দিতাম। কিন্তু আব্বুর এর মধ্যে পা ভেঙে যায় এবং খুব বড় অপারেশন ও হয়। যার ফলে আব্বু চাকরি ছেড়ে দেয়। তাই ক্লাস ১০ এ উঠে আমি টাকা দিতে পারব না বিধায় প্রাইভেট পড়তে আর যায় নি। এবং আমার বান্ধবীদের বলেছিলাম স্যার ম্যাম কিছু জিজ্ঞেস করলে বলতে যে আমার ফাইন্যান্সিয়াল সমস্যা আছে। কারন ওরাও আজ পর্যন্ত আমার সম্পর্কে এসব বিষয়ে কিছু জানে নাহ। হয়ত এই লেখা পড়লে জানবে। ওরাও স্যার ম্যামদের এমন বলে। কিন্তু এর প্রতিত্তোরে ২ জনই আমাকে এমনি পড়তে যেতে বলেছেন। আমি আমার জীবনে সবচেয়ে বেশি যদি ঋণি থাকি তবে তা হবেন Shelim Ahmed স্যার আর Syeda Masrur Jahan ম্যাম আপনারা ২জন। আপনারা যদি আমাকে ফ্রীতে না পড়াতেন এবং আপনাদের সৌজন্য কপি বইগুলো আমাকে না দিতেন তবে হয়ত ক্লাস ১০এর গন্ডিও আমার পার হওয়া সম্ভব হত নাহ। কারণ গাছের শিকর ভালো না হলে গাছ এমনি মারা যায়। আমি সারাজীবন আপনাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা থাকব।

যখন SSC পরীক্ষা শেষ হয় তখন আব্বু বলে আর পড়াশোনা করা সম্ভব নাহ। আব্বু আম্মু বাড়িতে চলে যায়। এবং আমি একটা হাসপাতালে আব্বুর কথা মত নার্সিং এর কাজ শিখতে যায়। তিন মাস পর রেজাল্ট দিলে SSC ta Golden GPA 5 পাওয়াতে স্যার ম্যামদের জন্য যখন মিষ্টি নিয়ে যাই তখন ম্যাম নার্সিং এর কথা শুনে অনেক বকা দেয় এবং কলেজ এ ভর্তি হতে বলে। তাই আমি আমার মত কলেজ চয়েস দেয় এবং সব কলেজই আসি। কিন্তু সরকারি হাজ্বী মোহাম্মদ মহসিন কলেজ এ ভর্তি হওয়ার জন্য ২৫০০ টাকা লাগবে যা আমার কাছে ছিল নাহ। আম্মুকে ফোন দিয়ে অনেক কান্নাকাটি করি যাতে কোন রকম কলেজে ভর্তি করায় দেয় এবং এটাও প্রমিজ করি যে আর কোনো দিন বাসা থেকে টাকা খুঁজব নাহ। আম্মুর থেকেও টাকা ছিল নাহ। আম্মু পরে আমার চাচাত ভাই এবং আমার স্টুডেন্ট এর বাবা থেকে টাকা নিয়ে মহসিন কলেজ এ ভর্তি করিয়ে বাড়িতে চলে যায়। এর পরে আসল সংগ্রাম শুরু হয়। আমি ২০০০ টাকা আর ১০০০ টাকা দেয়ে ২ টা টিউশনি শুরু করি। বই কিনার জন্য আমার টাকা ছিল নাহ। কিন্তু আল্লাহ আমার জন্য পদে পদে অনেক উছিলা ঠিক করে দিয়েছিলেন। Rumi Munna আন্টির বোনের জামাই একটা কলেজ এর শিক্ষক ছিলেন এবং ওনার ছেলে ও আমার সম বয়সের ছিল। ওনি আমাকে বাসায় নিয়ে ওনার ছেলের জন্য কিনা বইগুলো আমাকে দিলেন। বাসায় এসে দেখি নতুন বইয়ে ওনার ছেলের নাম লেখা। মানুষ কতটা উদার হলে এমন কাজ করতে পারে। আমি সত্যিই অনেক কৃতজ্ঞ।
নিজের টিউশন করে ঐ টাকা দিয়ে চকবাজার এ ৪ টা প্রাইভেট বেতন , নিজের হাতখরচ, পোশাক সব বহন করতে হত। এবং নিজের টাকায় ইন্টার এ প্রথম নতুন ইদ এর জামা কিনে ইদ করেছিলাম। বাসা থেকে টাকা নিয়ে না যখন খরচ চালাতে হিমশিম খাচ্ছিলাম তখন শুক্রবার এবং শনিবার কলেজ বন্ধ থাকলে এই ২ দিন গিয়ে আবার কাজ করতাম। নাস্তা বানানো অথবা ঘর পরিষ্কার এইগুলা করে দিলে যখন ৫০০ টাকা দিত খুশি মনে তা দিয়ে ২ ১ সপ্তাহ পার করে ফেলতে পারতাম। আমার সহপাঠীরা যখন প্রতিদিন ১০০টাকা খরচ করত আমার তখন ২০ টাকা ও অনেক হিসাব করে খরচ করতে হত।
সারাদিন কলেজ, কোচিং, টিউশন শেষ করে বাসায় আসতে ৮ টা ৯টা বাজত। HSC পরীক্ষার ঠিক আগে আগে যখন ইউনুস স্যারের কাছে ইংরেজি কোচিং করে বের হয় তখন Moshiul Nishan বলে “তুই এখন ও কেন টিউশন করাস? বন্ধ কর ” কিন্তু সেই দিন হাসি দেওয়া ছাড়া কিছু বলতে পাড়ি নাই। আজ হয়ত তুই উত্তরটা পাবি। পরীক্ষা চলাকালীন ও আমার পড়াতে হয়। আমার যে থেমে থাকার উপায় নেই। আমি বই নিয়ে যেতাম। ওদের ও পড়াতাম আমিও পড়তাম। এইভাবে HSC শেষ করি। ২০১৮ সালে HSC রেজাল্ট ভালো হয় নি। ঐদিন আমি পড়াতে দেরি করে গিয়েছিলাম। আমি যাওয়ার আগে আমার স্টুডেন্ট এর মা আমার স্টুডেন্টকে বলে ” তেমার মিস হয়ত এ প্লাস পায়নি” আমার ছাত্রী আমাকে নিয়ে এত কনফিডেন্ট ও বলে ” তুমি দেখিও মিস এ প্লাস পাবে” এর পরে পড়াতে গেলে যখন আমার ছাত্রী আমার ফলাফল শুনে আমার থেকে সে বেশি খুশি হয়েছিল। এই ছোট ছোট জিনিস আমাকে খুবই সাহস জুগাত।

এর পর ভার্সিতে মত জায়গা ঠিকানোর জন্য যাদের ভূমিকা অনস্বীকার্য তারা হলেন Mohammed Younus Sir and Jamir Uddin Sir. আমার জীবনে আপনাদের অবদান অনেক বেশি। আপনাদের যদি তখন আমি না পেতাম হয়ত ঘরের কোনো এক কোণে আমার আজ পরে থাকতে হত। Younus sir ১দিন পড়ানোর সময় মন খারাপ করে বলেছেন ” মিনহাজ তোমাকে আমি এখনও DU তে রাখতে পারছি নাহ। আপাতত CU তে রাখলাম ” বিশ্বাস করেন এর পর থেকে সব কিছু শেষ করে রাত ৯ টায় বাসায় এসে কফি খেয়ে খেয় রাত জেগে ইংরেজিতে সময় দিয়েছি। অন্য ১ দিন Jamir Sir বলছিলেন “তোমরা যদি কষ্ট করে পড় তাহলে আল্লাহ কখনো তোমাদের নিরাশ করবেন নাহ।” তখন সাথে সাথে আামি মনে মনে বলছিলাম “আল্লাহ তুমিত আমার অবস্থা জান। আমি চাইলে ও পড়ার জন্য সময় বের করতে পারছি নাহ। তুমি অন্তত আমার কষ্টের বিনিময়ে হলেও আমাকে DU তে টিকিয়ে দাও” আল্লাহ সেদিন আমার দোয়া কবুল করেছিলেন। সবাই যখন পরীক্ষার আগে আগে দিন রাত পড়ার টেবিলে পার করত তখন আমি রাত ৮ ৯ টার দিকে ইউনুস স্যার এর চোখ ফাঁকি দিয়ে কাতালগঞ্জের ২,৩,৪ নাম্বার রোড ক্রস করে বাসায় আসায় ব্যস্ত থাকতাম। কারণ স্যার ঐ সময় ঐ রোডে হাঁটতে বের হতেন। একদিন দেখা ও হয় স্যারের সাথে। এর পর যখন পরীক্ষা নিকটে আসে, স্যার যদি দেখে আমি না পড়ে তখনও পড়াচ্ছি এবং এর কারণ জানতে চেয়ে যদি অপ্রত্যাশিত প্রশ্ন করে এই ভয়ে আমি স্যারকে এড়িয়ে বাসায় আসতাম। কারণ উত্তর দেওয়ার মত সাহস আমার ছিল নাহ। MD Arkanul Islam Rupak বন্ধুদের পড়া দেখে অনেক হতাশ ছিলাম। কারণ সে তুলনায় আমি অনেক পিছিয়ে। তারপর ঢাকায় এসে পরীক্ষা দিলাম এবং আলহামদুলিল্লাহ টিকে ও গেলাম। সেদিন যদি ইউনুস স্যার ঐ কথা না বলত, ইংরেজি ভয় দূর না করত, জমির স্যার যদি কমার্সের বিষয়গুলোর জন্য সাহায্য না করত তাহলে আমার মত মানুষের DU পড়ার স্বপ্ন, স্বপ্নই থেকে যেত। আমি আপনাদের নিকট অনেক অনেক ঋণি।

টিউশনি টাকা জমিয়ে ১৬০০০ টাকা নিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হলেও নতুন একটি শহরে আমার মত মেয়ের টিকে থাকা অনেক কঠিন হত। শুরুর দিকে হলও পাওয়া অনেক মুশকিল ছিল। এমন সময় যে মানুষটাকে আমার সব চাইতে বশি দরকার ছিল আল্লাহ ওনাকেই আমার কাছে পাঠিয়েছেন। বললাম নাহ আল্লাহ আমার জন্য সব সময় উছিলা ঠিক করে রাখতেন। ঢাকায় আসার টিক আগে আগে আমার সাথে খুব অল্প সময়ের মধ্যে Shahid Sujan সাথে বিয়ে হয়। ওনি যদি না থাকত হয়ত আমার DU এর সাথে পথচলা ভর্তি হওয়ার মধ্যেই ইতি টানতে হত। এই মানুষটার অবদান আমার জীবনে কখনও শেষ হবে নাহ এবং তা লিখেও শেষ করা যাবে নাহ।

ঢাকাই আসার পর সংসার সামলে এবং ঢাকার জীবনেও ২ টা টিউশনি করে পড়াশোনা করাটাও এত সহজ ছিল নাহ। এর পর BBA 2nd year এর শেষে আমার মেয়ে হওয়া, মেয়ে হওয়ার পর যা কষ্ট করেছি তা হয়ত বলার অপেক্ষা রাখে নাহ। তার একমাত্র সাক্ষী আমার সহপাঠীরা। মেয়ে হওয়ার পর যখন ২ মাসের মাথায় ফাইনাল পরীক্ষা শুরু হয় তখন মা, শাশুড়ী কাউকে কাছে না পাওয়াই পাশের বাসার ভাবি Sarmin Islam ছিল আমার একমাত্র ভরসা। ফাইনাল পরীক্ষার প্রথম দিন যখন মিন্নাতকে পাশের বাসায় রেখে যাচ্ছিলাম ঐ দিন সারা রাস্তায় বাসে আমি কান্না করছিলাম্। যা দেখা বা শোনার কেউ ছিল নাহ। এই শহরে আমার কাছে আমার জামাই এবং আমার জামাই এর কাছে আমি ছিলাম একমাত্র ভরসা। বাবু হওয়ার পর প্রতিটা পরীক্ষায় ওর বাবা অনেক সাহায্য করেছে। বাবু সামলানো, রান্না করা, বাবুকে ঘুম পাড়ানো কোন কিছুই বাকি ছিল নাহ। আমার অর্জনের সমান অংশীদার কেউ থাকলে তা হবেন ওনি।
MBA শেষের দিকে আরও কষ্ট হয়েছিল আমার। মেয়ে নিয়ে ক্লাস করা, টিউশনি, সংসার সামলানো আর পারছিলাম নাহ।

এত কিছুর পরও টিকে থাকতে পেরেছি তার জন্য আলহামদুলিল্লাহ। আল্লাহর কাছে কোটি কোটি শুকরিয়া আমাকে আজকের জায়গায় আনার জন্য। আমি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করি আমার মা, বাবা, পরিবারের কাছে, আমার স্বামীর কাছে, আমার জীবনে পাওয়া সকল শিক্ষক- শিক্ষিকাদের কাছে, আমার বন্ধু – বান্ধবী, সিনিয়র, জুনিয়র সবার কাছে। Ittahadur Rahman Udoy ভাইয়া আপনি আমাকে আমার সবচেয়ে কঠিন সময়ে আপনার বই, নোটস না দিলে হয়ত ঐ সময় আমার পথটা অনেক কঠিন হয়ে যেত। আমি আপনার প্রতি অনেক কৃতজ্ঞ। আজকের জায়গায় আসতে যারা সরাসরি এবং পরোক্ষ ভূমিকা রেখেছেন তাদের সবাইকে আমার হৃদয়ের গভীর থেকে জানায় শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতা।এই ছোট জীবনে একটা পরিচয় হয়েছে। আমি আমার ভার্সিটি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতি চিরকৃতজ্ঞ আমাকে সেই পরিচয়টুকু দিয়ে তার একটি কোণে আমাকে ঠাঁই দেওয়ার জন্য।

ক্যারিয়ার নিয়ে তেমন ঘটা করে কোনো পরিকল্পনা নেই। ক্যারিয়ার এ অর্জন খাতা ফাঁকা থাকলেও তেমন আফসোস থাকবে নাহ। কারণ এতটুকু আসতে পারাও আমার মত মেয়ের জন্য কি কোনো অংশেই কম? অবশ্যই নাহ। তবে হ্যা, ততটুকু টাকা রোজগার করতে চায়, যতটুকু টাকা অর্জন করলে আমার মেয়েকে কখনও আমার মত এত সংগ্রাম করতে না হয়। আমার অপূরণীয় সকল চাওয়া পাওয়া গুলো আমার মেয়ের মাধ্যমে পূরণ করতে চায়।
আপনারা আমার জন্য দোয়া করিয়েন যাতে হালাল উপায়ে রোজগার করার পথ আল্লাহ খুলে দেয় এবং আমার ছোট সংসারটা যেন সুখে শান্তিতে পূর্ণ থাকে।

সবশেষে আমি ক্ষমা চাচ্ছি সকলের কাছে। কারও সাথে কখনো খারাপ আচরণ করলে আমি সত্যি খুবই দুঃখিত।

মিন্নাত এর বাবা আমি খুবই দুঃখিত। এই কথাগুলো তোমার আরও আগে জানা উচিত ছিল। কিন্তু বিশ্বাস কর আমি সামনাসামনি বলতে চেয়েও কখনো বলার সাহস পায়নি। আসা করি তুমি বুঝবে।

গতকাল আমার MBA ফলাফল দিয়েছে। ভালো ফলাফল করলেও নিজের অজান্তেই অনেক কান্না করেছি। এত কিছুর পরেও এই অর্জন আল্লাহর করুণা ছাড়া আর কিছু নয়। এই শুকরিয়া আমি কিভাবে আদায় করি!!

Minhaz Akter

MBA ( CGPA 3.96, 1st Class 1st in Department, jointly)
BBA ( CGPA 3.75, 1st Class 2nd in Department)
Banking and Insurance
University of Dhaka

HSC ( GPA 5)
SSC ( GPA 5)
আমার অর্জনের ঝুড়িতে এইটুকু অর্জনই আপাতত জমা হলো। দোয়াই রাখিয়েন।

যারা সংগ্রাম করছেন তাদের জন্য বলব, সংগ্রাম করে যান। এবং আল্লাহর উপর ভরসা রাখেন। নিশ্চয়ই আল্লাহই একমাত্র উত্তম পরিকল্পনাকারী।

লেখাটি মিনহাজ আক্তারের ফেইসবুক আইডি থেকে নেয়া

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।