ঢাকারবিবার , ১৭ আগস্ট ২০২৫

কোলন ক্যান্সার লক্ষণ ও চিকিৎসা

বার্তা বিভাগ
আগস্ট ১৭, ২০২৫ ১০:৫৩ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

কোলরেক্টাল ক্যান্সার নারী-পুরুষ উভয়ের ক্ষেত্রেই বিশ্বব্যাপী ক্যান্সারের তৃতীয় প্রধান কারণ। বাংলাদেশেও এ রোগের প্রকোপ কম নয় এবং এটি প্রথম দশটি ক্যান্সারের মধ্যে অন্যতম। দিন দিন এ রোগের প্রকোপ বেড়েই চলেছে। বিশ্বে সব ধরনের ক্যান্সারের মধ্যে কোলন ও রেকটাম ক্যান্সারে আক্রান্তের হার প্রায় ১০ শতাংশ (তৃতীয় প্রধান), বাংলাদেশে এ হার সাড়ে ৬ শতাংশ এবং এখানে রোগটির অবস্থান চতুর্থ। প্রতি বছর বাংলাদেশে প্রায় দুই লাখ মানুষ নতুন করে কোলন ক্যান্সারে আক্রান্ত হয় এবং প্রায় ১০ হাজার মানুষ এতে মারা যায়। সাধারণত ৫০ বছর পেরোলে এই রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বাড়ে, তবে ইদানিং অল্প বয়সে আক্রান্তের সংখ্যা আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে। প্রাথমিক পর্যায়ে কোলন ক্যান্সার নির্ণয় করা গেলে এবং সঠিক চিকিৎসায় ভালো হওয়ার সম্ভাবনা অনেক বেশি।

হওয়ার কারণ
পরিবেশ ও জিনগত কারণে বৃহদন্ত্র ও মলাশয়ে ক্যান্সার হওয়ার সম্ভাবনা শতকরা পাঁচ ভাগ বৃদ্ধি পায়। খাদ্যাভ্যাস একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। অতিরিক্ত গরু বা ছাগলের মাংস খাওয়া, খাদ্যতালিকায় আঁশজাতীয় খাবারের অনুপস্থিতি, ধূমপান ও মদ্যপান এই ক্যান্সার হওয়ার সম্ভাবনা বাড়ায়।

স্থুলকায় ব্যক্তিদের রোগ হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। অন্যদিকে ব্যায়াম ( বিশেষ করে পুরুষদের ক্ষেত্রে) এই রোগ হওয়ার সম্ভাবনা কমায়। বৃহদন্ত্র ও মলাশয় ক্যান্সার হওয়ার পারিবারিক ইতিহাস রোগটির সম্ভাবনা বাড়ায়। বিশেষ করে মা, বাবা, ভাই কিংবা বোনের কোলন ক্যান্সারের পারিবারিক ইতিহাস রোগের ঝুঁকি বাড়ায়। বিশেষ করে মা, বাবা, ভাই কিংবা বোনের কোলন ক্যান্সারের ইতিহাস থাকলে এই ঝুঁকি দ্বিগুণ হতে পারে। এছাড়া অন্ত্রের প্রদাহজনিত রোগীদের এই রোগে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা বেশি।

কোলন ক্যানসার মূলত মধ্য বয়স বা তার থেকে বেশি বয়সি ব্যক্তিদের মধ্যে দেখা যায়। তবে কিছু ক্ষেত্রে কম বয়সেও দেখা দিতে পারে এই রোগ। প্রাথমিক ভাবে কোলনের ভিতর উপবৃদ্ধি হিসেবে কোলন ক্যানসারের সুত্রপাত। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এই উপবৃদ্ধিগুলি ক্যানসারে রূপান্তরিত হতে পারে। মলদ্বারে প্রদাহ, মলত্যাগের সময় তীব্র যন্ত্রণা কিংবা রক্তপাতের মত সমস্যা কোলন ক্যানসারের লক্ষণ হতে পারে।

দিনে কত বার মল ত্যাগের প্রয়োজন অনুভূত হয়, আচমকা তার তারতম্য ঘটা কোলন ক্যানসারের অন্যতম লক্ষণ।
অপ্রত্যাশিত বমি বমি ভাব গা গুলিয়ে ওঠা বা কারণ ছাড়াই ওজন কমে যাওয়া কোলন ক্যান্সারের লক্ষণ হতে পারে।
কোলন ক্যানসারের রোগীদের মল ত্যাগের সময় ব্যথা ও যন্ত্রণা অনুভূত হতে পারে। মলত্যাগের পরেও মল রয়ে যাওয়ার অনুভূতি দেখা যায়। সরু ফিতের মতো মল নির্গত হওয়াও কোলন ক্যানসারের উপসর্গ হতে পারে।
মলদ্বারে রক্তপাত কোলন ক্যানসারের অন্যতম প্রধান লক্ষণ। অর্শ্বের সমস্যাতেও মলদ্বারের রক্তপাত হয়। তবে এই রক্তপাতের মধ্যেও রয়েছে তারতম্য। অর্শ্ব রোগীদের ক্ষেত্রে যে রক্তপাত হয় তা সাধারণত লাল। অপর দিকে কোলন ক্যানসারে আক্রান্ত রোগীদের ক্ষেত্রে এই রক্ত কালচে রঙের হয়। কালচে রং দেহের অভ্যন্তর থেকে নির্গত রক্তের সূচক।
পেট ব্যথাও কোলন ক্যানসারের অন্যতম মুখ্য একটি উপসর্গ।
কোলন ক্যানসারে যেহেতু অন্ত্র থেকে রক্তপাত হয় তাই, এটি রক্তাল্পতা তৈরি করে। রক্তাল্পতা ডেকে আনে ক্লান্তি।
তবে মনে রাখা দরকার, সাধারণ মানুষের পক্ষে কোলন ক্যানসারের লক্ষণ বুঝে ওঠা অত্যন্ত কঠিন। কাজেই এই ধরনের যে কোনও উপসর্গ দেখা গেলে অবিলম্বে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই বিচক্ষণতার পরিচয়।

রোগ নির্ণয়
প্রধান উপাদান কোলন্সকোপি ও বায়োপসি। বায়োপসি’র মাধ্যমে ক্যান্সার নির্ণয়ের পর সিটি স্ক্যান, রক্তে এন্টিজে- এর পরিমাণ ইত্যাদি বিভিন্ন পরীক্ষার মাধ্যমে ক্যান্সারের ধাপ নির্ণয় করা হয়। চিকিৎসার ক্ষেত্রে এই ধাপ নির্ণয় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রাথমিক ধাপের ক্যান্সারগুলোর চিকিৎসা পরবর্তী ফলাফল সন্তোষজনক, পক্ষান্তরে অগ্রসর ধাপের ক্যান্সারগুলোর চিকিৎসা পরবর্তী ফলাফল আশাপ্রদ নয়।
ক্যান্সার কোলনের বাইরে ছড়িয়ে গেলে (লসিকাগ্রন্থি, যকৃত, ফুসফুস ইত্যাদি) তাকে অগ্রসর ধাপ বলে বিবেচনা করা হয়।
তবে আশার কথা এই যে, অন্যান্য ক্যান্সারের চেয়ে কোলন ক্যান্সারের চিকিৎসা পরবর্তী ফলাফল অনেক ভালো। এমনকি অগ্রসর ধাপের ক্যান্সারে আক্রান্ত রোগীও সঠিক চিকিৎসা পেলে বহুদিন সন্তোষজনক ভাবে বেঁচে থাকতে পারেন।

চিকিৎসা
কোলরেক্টাল ক্যান্সার প্রাথমিক পর্যায়ে শনাক্ত হলে চিকিৎসার মাধ্যমে রোগীকে সুস্থ জীবনে ফিরিয়ে আনার সম্ভাবনা বেড়ে যায়। রোগীর শারীরিক অবস্থা এবং ক্যান্সার কোন পর্যায়ে আছে- তা নির্ধারণ করে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী চিকিৎসা দেয়া হয়। চিকিৎসার পদ্ধতিগুলো হল- সার্জারি, কেমোথেরাপি, রেডিও থেরাপি, টার্গেটেড থেরাপি ও ইমিউনো থেরাপি ইত্যাদি। v

[সহযোগী অধ্যাপক, সার্জারি, পপুলার মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, ঢাকা]

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।