‘বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের আমলে অনার্স-মাস্টার্স শেষ করতে আট থেকে দশ বছর লাগতো। বর্তমানে চার বছরে অনার্স সম্পন্ন হচ্ছে আর এক বছরে মাস্টার্স।’- বিএনপি জামায়াত জোট আমলে শিক্ষা ব্যবস্থার ত্রুটি নিয়ে এভাবেই মন্তব্য করেন ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি আল নাহিয়ান খান জয়। বঙ্গবন্ধুকন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ৭৬তম জন্মদিন উপলক্ষে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের পক্ষ থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল হলের নেতাকর্মীদের শেখ হাসিনার লেখা পুস্তক বিতরণ করা হয়ে। বৃহস্পতিবার (৬ অক্টোবর) আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে কথাগুলো বলেন ছাত্রলীগ সভাপতি।
এ সময় ছাত্রলীগ সভাপতি বলেন, বাংলাদেশের মানুষ শান্তিতে আছে। বিএনপি-জামায়াতের ষড়যন্ত্র আমরা বুঝে গিয়েছি।
তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন সকলেরই আন্দোলন করার অধিকার আছে। তবে সেটা যৌক্তিক আন্দোলন হতে হবে। কোনো বিশৃঙ্খলা থাকতে পারবে না। প্রধানমন্ত্রীর এ কথা বলার পরও বিএনপি জোট সরকার বিভিন্ন জায়গায় জঙ্গি হামলার মতো আক্রমণ করেছে।
অনুষ্ঠানে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি আল নাহিয়ান খান জয় বলেন, বাংলাদেশ ছাত্রলীগ সবসময় শিক্ষা শান্তি ও প্রগতির কথা বলে। বঙ্গবন্ধুকন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ৭৬তম জন্মদিন উপলক্ষে শেখ হাসিনার লেখা বই, বঙ্গবন্ধুর লেখা বই, স্বাধীনতার সঠিক ইতিহাস জানানোর বইগুলো ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে ছাত্রলীগ দেশের সকল সঙ্কট নিরসনে কাজ করে যাচ্ছে। অতীতে যেমন ছাত্রলীগ সবার পাশে ছিল ভবিষ্যতেও থাকবে।
বিএনপি-জামায়াত জোটের কার্যক্রমের সমালোচনা করে জয় বলেন, জাতীয় পতাকা নিয়ে মাটিতে মিশিয়ে কিভাবে অবমাননা করলো তারা। এই ধরনের ইতিহাস যারা সৃষ্টি করলো। তাদের আগের ইতিহাসও কিন্তু আমরা জানি। জোট সরকারের আমলে বাংলাদেশ দুর্নীতিতে বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হয়েছে। সেই বিএনপি জোট সরকারের আমলে আট থেকে দশ বছর সময় লাগতো অনার্স মাস্টার্স পাস করতে। কিন্তু শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বর্তমান সরকারের সফলতা দেখে জামায়াত শিবির কষ্ট পাচ্ছে, তাদের গায়ে চুলকানি ধরে গেছে।
পুস্তক বিতরণের এই অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রলীগের নেতকর্মীরা আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সমবেত হন। এ সময় ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি আল নাহিয়ান খান জয়ের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া বলেন, ছাত্রলীগের যে একটি ঐতিহ্যবাহী সোনালী অতীত রয়েছে, এটি আর কেন দলের নেই। সেই সোনালী অতীতকে জাগ্রত করতে জ্ঞান বিজ্ঞানে ছাত্রলীগ এগিয়ে যাওয়ার জন্য বই পড়ার কোন বিকল্প নেই। প্রধানমন্ত্রীর জন্মদিনে এই অনুষ্ঠানের চেয়ে আর কোন ভালো অনুষ্ঠান হতে পারে না।
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ ছাত্রলীগ দেশের সকল সঙ্কটে গণমানুষের জন্য কাজ করেছে। পক্ষান্তরে বাংলাদেশ ছাত্রদল সৃষ্টি হয়েছে অবৈধ শাসকের হাতধরে। বাংলাদেশ ছাত্রলীগকে দমাতেই ছাত্রদল তৈরি করেছিলেন জিয়াউর রহমান। তার সেই উদ্দেশ্য সফল হয়নি।
অনুষ্ঠানে প্রধান আলোচক আওয়ামী লীগের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার মো. আবদুস সবুর বলেন, বাংলাদেশ ছাত্রলীগের পুস্তক বিতরণের এই অনুষ্ঠান ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের জ্ঞান বিজ্ঞানে আরও এগিয়ে নিতে সাহায্য করবে। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভানেত্রীর হাত ধরে দেশ এগিয়ে যাচ্ছে, আর দেশের সকল সঙ্কটে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ গণমানুষের সেবায় সর্বদা নিয়োজিত রয়েছে।
এ সময় আরও বক্তব্য রাখেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ও ডাকসুর সাবেক এজিএস সাদ্দাম হোসেন। পরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল হলের নেতাকর্মীদের মাঝে শেখ হাসিনার লেখা, বঙ্গবন্ধুর লেখা পুস্তক বিতরণ করা হয়।
